সফল ফ্রীল্যান্সার হতে নতুনদের জন্য কিছু সতর্কতা
মার্কেটপ্লেসগুলোতে বর্তমানে কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে খুব বেশী প্রতিযোগিতা লক্ষ্য করা যায়। বিশেষতঃ ওডেস্কে। বেশ কিছু কারণে এই মার্কেটপ্লেসে নতুনদের আবেদনের হার তুলনামূলকভাবে একটু বেশি। তার মধ্যে অন্যতম কারণ হচ্ছে কম মূল্যে আবেদন করার সু্যোগ। যার কারণে বায়াররা বুঝতে পারেনা কাকে দিয়ে কাজ করালে তার কাজটি সঠিকভাবে সম্পন্ন হবে। ফলে তারা অভিজ্ঞ এবং ভাল ফিডব্যাক পাওয়া ফ্রিলান্সারদের অগ্রাধিকার দেন। এতে নতুনদের ক্ষেত্রে কাজ পাওয়া অনেকটা দুরূহ ব্যপার হয়ে দাঁড়ায়। তবে এমন না যে নতুনরা কাজ পায় না। কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকলে নতুনরাও কাজ পেতে পারেন এবং কাঙ্খিত সাফল্য অর্জন করতে পারেন।
তাহলে দেখা যাক বিষয় গুলো কিঃ
ক) দক্ষতা অর্জনঃ
ফ্রিল্যান্সিং একটি প্রক্রিয়ার নাম, কোন দক্ষতার নাম নয়। ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসগুলো কোন কাজ শেখার স্থান নয়। বরং কাজ শিখে তার প্রয়োগ করার স্থান হলো এইসব মার্কেটপ্লেসগুলো। ওডেস্ক বা যেকোন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে আপনি যখন কাজ করতে আসবেন, অবশ্যই আপনাকে যোগ্যতা নিয়ে আসতে হবে। যে কোন বিভাগে আপনি দক্ষতা অর্জন করে, সেই দক্ষতার প্রয়োগ করার জন্যই ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস গুলো।
খ) দক্ষতা অনুযায়ী মার্কেটপ্লেসে প্রোফাইল তৈরীকরণঃ
১। ওডেস্ক প্রোফাইলটি সুন্দরভাবে গুছিয়ে লিখতে হবে। এ ক্ষেত্রে মান সম্মত ফ্রিল্যান্সারদের প্রোফাইল চেক করে আইডিয়া নিতে পারেন এতে কোন কনফিউশন থাকলেও দূর হয়ে যাবে। যেখানে যে তত্ত্ব দেয়া দরকার তা প্রোভাইড করুন। কখনো মিথ্যা কোন তত্ত্ব আপনার প্রোফাইলে দিবেননা। প্রোফাইলটি কয়েকবার চেক করুন। ভুলত্রুটি থাকলে অবশ্যই এডিট করুন।
২। টাইটেলের স্থানে এমন একটি টাইটেল লিখুন যা দ্বারা প্রথম দেখাতেই ক্লায়েন্ট আপনার সম্পর্কে একটি পূর্ণাঙ্গ ধারণা পেতে পারেন। এতে আপনার কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা আরও বেড়ে যাবে।
৩। ওভারভিউতে সুন্দর করে গুছিয়ে প্রফেশনাল দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আপনার দক্ষতা, পেশাগত বর্ণনা তুলে ধরুন। আপনার দক্ষতা যেসব কাজের জন্য প্রযোজ্য তা এমনভাবে ফুটিয়ে তুলার চেষ্টা করুন যেন তা দিয়ে একটি কাজের ধারাবাহিকতা বর্ণনা করছেন।
৪। নিজের যে সকল স্কিল আছে সেগুলো লিখুন। এমন কোন স্কিল নির্বাচন করবেন না যে কাজ আপনি ভালভাবে পারেননা।
৫। পোর্টফোলিও প্রজেক্টে আপনার করা কাজগুলো থেকে বাছাইকৃত কিছু ভাল কাজ সংযুক্ত করুন। অবশ্যই খেয়াল রাখবেন, স্কিলে যা যা নির্বাচন করেছেন তার প্রত্যেকটি বিষয়ের উপর যেন অন্তত একটি করে কাজের নমুনা আপনার পোর্টফোলিওতে থাকে। কারণ আপনি কি দক্ষতা নির্বাচন করেছেন তা দেখার চেয়ে ক্লায়েন্ট আপনার পূর্বের করা কাজকেই বেশি অগ্রাধিকার দিতে চাইবে।
গ) কাজের আবেদন যেভাবে করবেনঃ
১। আপনি যে কাজে দক্ষ ঠিক সে কাজের জন্য আবেদন করুন। যে জব ডেসক্রিপশনটি আপনার স্কিল এবং পোর্টফোলিওর সাথে সামঞ্জস্য থাকে শুধুমাত্র সেগুলোতেই বিড করুন। কিছু পারেন, কিছু পারেন না এমন কাজে কখনও আবেদন করতে যাবেন না।
২। সুন্দর ও সাবলিল ভাষায় গুছিয়ে এবং কাজটি আপনি কিভাবে করবেন সংক্ষেপে বর্ণনা দিয়ে একটি কভার লেটার (ক্লিক করে লিখার নিয়ম দেখুন) লিখুন। কভার লেটারটি সেন্ড করার পূর্বে অবশ্যই কয়েকবার চেক করে নিন কোন প্রকার ত্রুটি বা অস্পষ্ট কিংবা অবাঞ্চিত বক্তব্য আছে কি না। একটি সুন্দর কভার লেটার আপনার কাজ পাওয়ার সম্ভাবনাকে অনেক গুন বাড়িয়ে দেয়।
৩। এবার আপনার কাজের দাম নির্ধারণ করুন, যা হবে অবশ্যই প্রাসঙ্গিক। খুব বেশি চড়া দাম কিংবা খুব নিম্নমূল্যে কোন কাজের আবেদন করবেন না। এতে আপনার সম্পর্কে ক্লায়েন্ট নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করবে। শুরুতে একটু কমমূল্যে আবেদন করলেও এত কমমূল্যে আবেদন করবেন না যা আপনার কাজ এবং আপনার জন্য অসম্মানজনক হয়। তাই কাজের ধরণ ও অবস্থা বুঝে একটি প্রাসঙ্গিক দাম নির্ধারণ করুন। চাইলে ক্লায়েন্টকে বলতে পারেন যে, প্রথম হিসেবে একটু কমেই কাজটা করে দিতে আপনি রাজি আছেন। এতে সে আপনাকে কাজটি দিতেও পারে।
ঘ) যে ভুল গুলো নতুনরা করে থাকেনঃ
১। অধ্যসায়হীনতাঃ কোন অবস্থাতেই হাল ছাড়া যাবেনা। চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। প্রথম কাজটি পাওয়া একটু কষ্টকর। কিন্তু একবার কাজ পাওয়া শুরু করলে আর পেছনে তাকাতে হবে না যদি আপনি যোগ্যতাসম্পন্ন, দক্ষ লোক হোন। বহু সফল ফ্রিল্যান্সার এমন পাওয়া যাবে যারা প্রথম কাজটি পাওয়ার জন্য মাসকে মাস চেষ্টা করেছেন। বর্তমানে হয়তো তারা সময়ের অভাবে অনেক কাজই ছেড়ে দিচ্ছেন। তাই ওডেস্ক বা যেকোনো ফ্রিল্যান্সিং প্লাটফর্মে ফ্রিল্যান্সিং করতে হলে সাফল্যের আকাঙ্খা নিয়ে লেগে থাকতে হবে। অধ্যাবসায় ছাড়া ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার গড়া সম্ভব না। অধ্যবসায়ই ফ্রিল্যান্সার হবার মূলমন্ত্র। চাওয়াটাই যেন পাওয়া হয় এরকম চিন্তাধারা মাথায় রেখে অধ্যবসায় চালিয়ে যেতে হবে। তাহলে সফলতা হাতছানি দিবে। কোনভাবেই হতাশ হওয়া চল্বেনা।
২। সময় জ্ঞানহীনতাঃ অধ্যসায়ের পাশাপাশি একজন ফ্রিল্যান্সারকে অবশ্যই সময় সচেতনত হতে হবে। সময়ের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া একজন ফ্রিল্যান্সারের নৈতিক দায়িত্ব এবং কর্তব্য। সঠিক সময়ে কাজ শেষ করা, যেকোন বিষয়ে ক্লায়েন্টের সাথে সঠিক সময়ে যোগাযোগ রাখা, ইত্যাদি বিষয়ে লক্ষ রাখতে হবে।
৩। শিখার প্রতি অনীহাঃ যেকোন স্থানে/পরিস্থিতিতে/সময়ে আরো ভাল কাজ শিখার মানসিকতা রাখতে হবে।
সবার প্রতি শুভ কামনা রইল।
মার্কেটপ্লেসগুলোতে বর্তমানে কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে খুব বেশী প্রতিযোগিতা লক্ষ্য করা যায়। বিশেষতঃ ওডেস্কে। বেশ কিছু কারণে এই মার্কেটপ্লেসে নতুনদের আবেদনের হার তুলনামূলকভাবে একটু বেশি। তার মধ্যে অন্যতম কারণ হচ্ছে কম মূল্যে আবেদন করার সু্যোগ। যার কারণে বায়াররা বুঝতে পারেনা কাকে দিয়ে কাজ করালে তার কাজটি সঠিকভাবে সম্পন্ন হবে। ফলে তারা অভিজ্ঞ এবং ভাল ফিডব্যাক পাওয়া ফ্রিলান্সারদের অগ্রাধিকার দেন। এতে নতুনদের ক্ষেত্রে কাজ পাওয়া অনেকটা দুরূহ ব্যপার হয়ে দাঁড়ায়। তবে এমন না যে নতুনরা কাজ পায় না। কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকলে নতুনরাও কাজ পেতে পারেন এবং কাঙ্খিত সাফল্য অর্জন করতে পারেন।
তাহলে দেখা যাক বিষয় গুলো কিঃ
ক) দক্ষতা অর্জনঃ
ফ্রিল্যান্সিং একটি প্রক্রিয়ার নাম, কোন দক্ষতার নাম নয়। ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসগুলো কোন কাজ শেখার স্থান নয়। বরং কাজ শিখে তার প্রয়োগ করার স্থান হলো এইসব মার্কেটপ্লেসগুলো। ওডেস্ক বা যেকোন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে আপনি যখন কাজ করতে আসবেন, অবশ্যই আপনাকে যোগ্যতা নিয়ে আসতে হবে। যে কোন বিভাগে আপনি দক্ষতা অর্জন করে, সেই দক্ষতার প্রয়োগ করার জন্যই ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস গুলো।
খ) দক্ষতা অনুযায়ী মার্কেটপ্লেসে প্রোফাইল তৈরীকরণঃ
১। ওডেস্ক প্রোফাইলটি সুন্দরভাবে গুছিয়ে লিখতে হবে। এ ক্ষেত্রে মান সম্মত ফ্রিল্যান্সারদের প্রোফাইল চেক করে আইডিয়া নিতে পারেন এতে কোন কনফিউশন থাকলেও দূর হয়ে যাবে। যেখানে যে তত্ত্ব দেয়া দরকার তা প্রোভাইড করুন। কখনো মিথ্যা কোন তত্ত্ব আপনার প্রোফাইলে দিবেননা। প্রোফাইলটি কয়েকবার চেক করুন। ভুলত্রুটি থাকলে অবশ্যই এডিট করুন।
২। টাইটেলের স্থানে এমন একটি টাইটেল লিখুন যা দ্বারা প্রথম দেখাতেই ক্লায়েন্ট আপনার সম্পর্কে একটি পূর্ণাঙ্গ ধারণা পেতে পারেন। এতে আপনার কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা আরও বেড়ে যাবে।
৩। ওভারভিউতে সুন্দর করে গুছিয়ে প্রফেশনাল দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আপনার দক্ষতা, পেশাগত বর্ণনা তুলে ধরুন। আপনার দক্ষতা যেসব কাজের জন্য প্রযোজ্য তা এমনভাবে ফুটিয়ে তুলার চেষ্টা করুন যেন তা দিয়ে একটি কাজের ধারাবাহিকতা বর্ণনা করছেন।
৪। নিজের যে সকল স্কিল আছে সেগুলো লিখুন। এমন কোন স্কিল নির্বাচন করবেন না যে কাজ আপনি ভালভাবে পারেননা।
৫। পোর্টফোলিও প্রজেক্টে আপনার করা কাজগুলো থেকে বাছাইকৃত কিছু ভাল কাজ সংযুক্ত করুন। অবশ্যই খেয়াল রাখবেন, স্কিলে যা যা নির্বাচন করেছেন তার প্রত্যেকটি বিষয়ের উপর যেন অন্তত একটি করে কাজের নমুনা আপনার পোর্টফোলিওতে থাকে। কারণ আপনি কি দক্ষতা নির্বাচন করেছেন তা দেখার চেয়ে ক্লায়েন্ট আপনার পূর্বের করা কাজকেই বেশি অগ্রাধিকার দিতে চাইবে।
গ) কাজের আবেদন যেভাবে করবেনঃ
১। আপনি যে কাজে দক্ষ ঠিক সে কাজের জন্য আবেদন করুন। যে জব ডেসক্রিপশনটি আপনার স্কিল এবং পোর্টফোলিওর সাথে সামঞ্জস্য থাকে শুধুমাত্র সেগুলোতেই বিড করুন। কিছু পারেন, কিছু পারেন না এমন কাজে কখনও আবেদন করতে যাবেন না।
২। সুন্দর ও সাবলিল ভাষায় গুছিয়ে এবং কাজটি আপনি কিভাবে করবেন সংক্ষেপে বর্ণনা দিয়ে একটি কভার লেটার (ক্লিক করে লিখার নিয়ম দেখুন) লিখুন। কভার লেটারটি সেন্ড করার পূর্বে অবশ্যই কয়েকবার চেক করে নিন কোন প্রকার ত্রুটি বা অস্পষ্ট কিংবা অবাঞ্চিত বক্তব্য আছে কি না। একটি সুন্দর কভার লেটার আপনার কাজ পাওয়ার সম্ভাবনাকে অনেক গুন বাড়িয়ে দেয়।
৩। এবার আপনার কাজের দাম নির্ধারণ করুন, যা হবে অবশ্যই প্রাসঙ্গিক। খুব বেশি চড়া দাম কিংবা খুব নিম্নমূল্যে কোন কাজের আবেদন করবেন না। এতে আপনার সম্পর্কে ক্লায়েন্ট নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করবে। শুরুতে একটু কমমূল্যে আবেদন করলেও এত কমমূল্যে আবেদন করবেন না যা আপনার কাজ এবং আপনার জন্য অসম্মানজনক হয়। তাই কাজের ধরণ ও অবস্থা বুঝে একটি প্রাসঙ্গিক দাম নির্ধারণ করুন। চাইলে ক্লায়েন্টকে বলতে পারেন যে, প্রথম হিসেবে একটু কমেই কাজটা করে দিতে আপনি রাজি আছেন। এতে সে আপনাকে কাজটি দিতেও পারে।
ঘ) যে ভুল গুলো নতুনরা করে থাকেনঃ
১। অধ্যসায়হীনতাঃ কোন অবস্থাতেই হাল ছাড়া যাবেনা। চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। প্রথম কাজটি পাওয়া একটু কষ্টকর। কিন্তু একবার কাজ পাওয়া শুরু করলে আর পেছনে তাকাতে হবে না যদি আপনি যোগ্যতাসম্পন্ন, দক্ষ লোক হোন। বহু সফল ফ্রিল্যান্সার এমন পাওয়া যাবে যারা প্রথম কাজটি পাওয়ার জন্য মাসকে মাস চেষ্টা করেছেন। বর্তমানে হয়তো তারা সময়ের অভাবে অনেক কাজই ছেড়ে দিচ্ছেন। তাই ওডেস্ক বা যেকোনো ফ্রিল্যান্সিং প্লাটফর্মে ফ্রিল্যান্সিং করতে হলে সাফল্যের আকাঙ্খা নিয়ে লেগে থাকতে হবে। অধ্যাবসায় ছাড়া ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার গড়া সম্ভব না। অধ্যবসায়ই ফ্রিল্যান্সার হবার মূলমন্ত্র। চাওয়াটাই যেন পাওয়া হয় এরকম চিন্তাধারা মাথায় রেখে অধ্যবসায় চালিয়ে যেতে হবে। তাহলে সফলতা হাতছানি দিবে। কোনভাবেই হতাশ হওয়া চল্বেনা।
২। সময় জ্ঞানহীনতাঃ অধ্যসায়ের পাশাপাশি একজন ফ্রিল্যান্সারকে অবশ্যই সময় সচেতনত হতে হবে। সময়ের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া একজন ফ্রিল্যান্সারের নৈতিক দায়িত্ব এবং কর্তব্য। সঠিক সময়ে কাজ শেষ করা, যেকোন বিষয়ে ক্লায়েন্টের সাথে সঠিক সময়ে যোগাযোগ রাখা, ইত্যাদি বিষয়ে লক্ষ রাখতে হবে।
৩। শিখার প্রতি অনীহাঃ যেকোন স্থানে/পরিস্থিতিতে/সময়ে আরো ভাল কাজ শিখার মানসিকতা রাখতে হবে।
সবার প্রতি শুভ কামনা রইল।